সোনারগাঁয়ের খবর

সোনারগাঁয়ে অপ্রতিরোধ্য কিশোর গ্যাং

নিজস্ব সংবাদদাতা :


নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় কিশোর অপরাধ যেন থামছেই না।কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্য নিজেই মানববন্ধন করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। একের পর এক অপরাধ করেই যাচ্ছে এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। যেন অপ্রতিরোধ্য কিশোর গ্যাং! সোনারগাঁয়ের গণমানুষের আতঙ্কের নাম এখন কিশোর গ্যাং।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, পিরোজপুর ইউনিয়নে দুটি, মোগরাপাড়া ইউনিয়নে দুটি, পৌরসভায় তিনটি ও বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নে দুটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। তাদেরকে শেল্টার দেন রাজনৈক দলের পাতি নেতারা। পুলিশ সবই জানেন কিন্তু ভিকটিমের অভিযোগ না আসা ও যথেষ্ট প্রমাণের অজুহাতে তাদের ধরেন না।

সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যের বাজার মাছঘাটের কাছে এক দোকানে সামান্য ময়দা সেমাই না থাকায় এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করেছে কিশোর গ্যাং বাহিনীর সন্ত্রাসীরা।

গত রবিবার সন্ধ্যায় বৈদ্যের বাজারে লিমা স্টোর নামে এক মুদির দোকানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় লিমা স্টোরের কর্ণধার আলী আজগর আহত হন।

এ ঘটনায় ভিকটিমের ছোট ভাই মাসুদ রানা বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

অভিযোগ থেকে জানা যায় যে, গত ১৬/০৬/২০২৪ ইং তারিখ রবিবার সন্ধ্যায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য রাতুল, ফয়সাল, ইরফান, রতন, সজীব, (ওরফে পাগলা সজীব) সহ আরও অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন লামিয়া স্টোরের মালিক আলী আজগরের কাছে আটা, ময়দা ও সেমাই কিনতে আসে। কিন্তু তার দোকানে ময়দা সেমাই না থাকায় তাকে বিভিন্ন কটু কথা ও ভৎসনা করতে থাকে। লামিয়া স্টোরের মালিক তাকে বকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য তাকে এলোপাথারি কিল ও ঘুষি মারতে থাকে ১নং বিবাদী রাতুল ও তার সহকারীরাও দোকান মালিকের উপর চড়াও হয় এবং দোকানীকে মারধর করতে থাকে। এতে করে আলী আজগরের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত প্রাপ্ত হয়। পরে ১নং বিবাদী রাতুল দোকানের ক্যাশ থেকে নগত প্রায় ১৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার)টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়াও ২নং আসামী আলী আজগরের হাতে থাকা একটি অপপো ব্যান্ডের মোবাইল সেট নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় থানা পুলিশ করলে ভিকটিমকে মেরে মেঘনা নদীতে ফেলে দিবে বলে হুমকি প্রদান করে।

এ বিষয়ে রাতুলের মোবাইল ফোনে ফোন করলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। উল্লেখ্য এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা কিছু দিন আগে বিডি ক্লিনের এক নারী সদস্যকে ইভটিজিং করে এবং তাদেরকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা ও চলমান রয়েছে।

এই কিশোর গ্যাংটির আতঙ্কে বৈদ্যর বাজারে অনেক দোকানী ভয়ে আছে। তারা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুদি দোকানী বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর ব্যবসা করতে পারবো না।

এছাড়াও এই গ্রুপের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে অনেকে জানায়।

প্রশাসন যদি শক্ত হাতে এদের দমন না করে তাহলে ভবিষ্যতে তারা আরও ভয়ংকর রুপ ধারণ করবে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানায়, বৈদ্যেরবাজারে ব্যবসায়ীকে হামলার ঘটনার একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দোষীদের অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেফতার করা হবে।

Related Articles

Back to top button